সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রক্সি পাঠদান করানোর অভিযোগে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদের নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেলকুচি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন—বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ১২২ নম্বর চরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, জান্নাত আরা ও লাভলী খাতুন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে নিজেদের পরিবর্তে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে পাঠদান করানোর অভিযোগ ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানের মান নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরে স্থানীয়রা বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আনেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেলকুচি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘন করে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করা এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে পাঠদান করানো শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিন শিক্ষককে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাঁদের জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও বিভাগীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
আপনার মতামত লিখুন