সিরাজগঞ্জ    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক



সাবেক আইজিপি বেনজীরকে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ফাইল ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতিসহ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য-প্রমাণ সংবলিত নথি চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানিলন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত একত্র করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা বিপুল সম্পদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশানের ১২৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত একটি ভবনের দুটি ফ্লোরে থাকা চারটি ফ্ল্যাট গত বছরের ডিসেম্বরে ক্রোক করে দুদক। ফ্ল্যাটগুলোতে থাকা আসবাবপত্রও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে জব্দ করা সম্পদ থেকে এখনো পুরোপুরি আয় নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশানের ওই ফ্ল্যাটগুলোর প্রতিটি ফ্লোরের সম্ভাব্য মাসিক ভাড়া প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে রাজধানীর আদাবরে থাকা ছয়টি এবং বাড্ডায় থাকা দুটি ফ্ল্যাটের জন্যও এখনো রিসিভার নিয়োগ করা যায়নি।

অন্যদিকে, গোপালগঞ্জে বেনজীরের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্ট স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সেখান থেকে অর্জিত রাজস্ব নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকা তাঁর একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে অভিযোগের সমর্থনে নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহসিব হোসেন বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আসামিকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে নথিপত্রের যথার্থতা ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য। অন্যথায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জটিল হয়ে পড়তে পারে।

বিষয় : বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার সুপ্রিম কোর্ট আসামি আইনজীবী দুদক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


সাবেক আইজিপি বেনজীরকে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতিসহ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য-প্রমাণ সংবলিত নথি চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানিলন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত একত্র করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা বিপুল সম্পদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশানের ১২৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত একটি ভবনের দুটি ফ্লোরে থাকা চারটি ফ্ল্যাট গত বছরের ডিসেম্বরে ক্রোক করে দুদক। ফ্ল্যাটগুলোতে থাকা আসবাবপত্রও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে জব্দ করা সম্পদ থেকে এখনো পুরোপুরি আয় নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশানের ওই ফ্ল্যাটগুলোর প্রতিটি ফ্লোরের সম্ভাব্য মাসিক ভাড়া প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে রাজধানীর আদাবরে থাকা ছয়টি এবং বাড্ডায় থাকা দুটি ফ্ল্যাটের জন্যও এখনো রিসিভার নিয়োগ করা যায়নি।

অন্যদিকে, গোপালগঞ্জে বেনজীরের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্ট স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সেখান থেকে অর্জিত রাজস্ব নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকা তাঁর একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে অভিযোগের সমর্থনে নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহসিব হোসেন বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আসামিকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে নথিপত্রের যথার্থতা ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য। অন্যথায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জটিল হয়ে পড়তে পারে।


দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা

প্রধান সম্পাদকঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ আব্দুল হামিদ খান হীরা
নির্বাহী সম্পাদকঃ নাফিউ খান (আবির)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা
সাবেক আইজিপি বেনজীরকে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক
0:00 0:00
1.0x