সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে শাজাহান আলী নামে এক ভ্যান চালক হত্যা মামলায় চার আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নিহতের স্ত্রী শিরিনা খাতুন, শশুর সিরাজ আলী ও শাশুরি বানেছা বেগমকে পাঁচ বছর করে কারাদন্ড ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড ও আরো চার মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩য় আদালতের বিচারক মোঃ নজরুল ইসলাম এই কারাদন্ড প্রদান করেন।
যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, কাজীপুর উপজেলার কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের অহেজ আলীর ছেলে সুরুজ আলী, জসমী শেখের ছেলে হারুন, মেছের মেম্বরের ছেলে শিবলু ও ফরিদ শেখের ছেলে লাল মিয়া।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ এনামুল করিম (শাহীন) বলেন, এই মামলার মোট ৮ জন আসামীর মধ্যে ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, তিন জনকে ৫ বছর করে কারাদন্ড ও আসামী আসমা খাতুনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালে জামালপুর সরিষাবাড়ী উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের আরফান আলীর ছেলে শাজাহান আলীর সঙ্গে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের সিরাজ আলীর মেয়ে শিরিনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পর শিরিনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আনা হয়। ২০ দিন পর শিরিনার শশুর বাড়ির লোকজন তাকে আনতে গেলে আসামী হারুন, শিবলু, সুরুজ ও লাল মিয়ার কুমন্ত্রনায় শিরিনার মা-বাবা শিরিনাকে শশুর বাড়িতে আসতে বাঁধা দেয়।
এনিয়ে শিরিনার সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। কিছুদিন পর শাজাহান আলী তার স্ত্রীকে শশুর বাড়িতে অনতে গেলে শশুর-শাশুরির অনুরোধে সে শশুর বাড়িতে থেকে যায় এবং ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। শাজাহান আলী শশুর বাড়িতে থাকাবস্থায় আসামী হারুন ও শিবলু তার শশুর বাড়িতে ঘন ঘন যাতায়াত করতে থাকেন। যাতায়াতের বিষয়টি নিষেধ করলে আসামীরা শাজাহান আলীকে মারপিট করে এবং হত্যার হুমকী দেয়।
২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর শাজাহান আলী বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরের দিন ১২ নভেম্বর শশুর বাড়ির উঠানে মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটিতে পুতে রাখা হয় বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এঘটনায় নিহতের পিতা আরফান আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ এই মামলার রায় ঘোষনা করে আদালত।
আপনার মতামত লিখুন