উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.২৮ মিটার, যেখানে বিপদসীমা ৫২.১৫ মিটার। অর্থাৎ পানি বর্তমানে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে অব্যাহত বৃষ্টিপাত এবং টানা বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চরাঞ্চল, ফসলি জমি ও বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হতে শুরু করেছে। অনেক এলাকায় নৌকা ও ভেলা এখন মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
পানির চাপ বাড়তে থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী সড়কগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলোর কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় বড় ধরনের বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দা সামসুল আলম বলেন, ‘পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। এভাবে বাড়তে থাকলে বড় বন্যা হতে পারে।’
সিন্দুর্না চরের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান বলেন, ‘উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সামান্য পানি বাড়লেই চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। এবারও পানি বাড়ার পাশাপাশি আমাদের এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ‘উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন