সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই প্রতিবন্ধী নারীর মা বাদী হয়ে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী।
জানা গেছে, ধর্ষণের বিষয়টি বাদীপক্ষকে মীমাংসার জন্য চাপ দেয় অভিযুক্তরা। বিষয়টি মীমাংসা না করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বললে ভুক্তভোগী নারীর ভাই ও তার শ্যালককে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত করে অভিযুক্তরা।
কামারখন্দ থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার তেঘরি গ্রামের ৩২ বছর বয়সী এক বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী গ্রামের কবরস্থানে বসে ছিলো। এই সুযোগে একই গ্রামের মৃত বারিক সেখের ছেলে আলম (৫২) টাকার লোভ দেখিয়ে কবরস্থানের ঝোপঝাড়ের মধ্যে নিয়ে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এদিকে তার মা ওই প্রতিবন্ধী নারীকে খুঁজতে থাকে এক পর্যায়ে কবরস্থানের ঝোপঝাড় থেকে আলমকে আসতে দেখে ওই নারীর মা আলমের কাছে তার মেয়েকে দেখতে দেখেছে কিনা জানতে চায়। এসময় তার মাকে গালিগালাজ করতে থাকে আলম। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে কবরস্থানের ঝোপঝাড়ের মধ্যে গিয়ে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাকে জিজ্ঞাসা করলে আলম তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। এ ঘটনার পর থেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বাদীপক্ষকে চাপ সৃষ্টি করে আলম সহ মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা। মীমাংসা করতে রাজি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার সড়কের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই নারীর ভাইয়ের মাথায়, পিঠের ওপরের অংশে ও পায়ে গুরুতর আঘাত করে অভিযুক্তরা। এসময় ঠেকাতে আসলে তার শ্যালকের মাথায়ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। তারা দুজনেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই নারীর মা বাদী হয়ে প্রধান অভিযুক্ত আলম সহ ১১জনের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
আপনার মতামত লিখুন