উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদীর চরাঞ্চলের নিম্নঅঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। জেলার শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ফ্লাট সেন্টার এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতভিটা, ঘরবাড়ি। ভাঙনে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ৯ সেন্টিসিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার নিচে ও কাজীপুরে মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি কারণে জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
শাহজাদপুর উপজেলার কুরসি গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, নদী ভাঙনে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। চরে আমার প্রায় ৬০ বিঘা জমি ছিল। এই জমি আবাদ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাতাম। কিন্তু সর্বনাশা যমুনা নদী আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব। ভাঙনের কারণে আমার মতো অনেক মানুষ আজ পথের ভিখারি।
কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকার কাদের শেখ বলেন, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি মাসে এই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে চরগিরিশ ফ্লাট সেন্টার, পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতভিটা, ঘরবাড়ি।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত ১৩ জুলাই থেকে টানা আট দিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ৯ সেন্টিসিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার নিচে ও কাজীপুরে মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
বন্যার স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যায় মানুষের জানমাল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সিরাজগঞ্জ জেলা যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এখানেও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজীপুরের ৭টি, সদরের ৪টি, বেলকুচির ২টি, চৌহালীর ৫টি, শাহজাদপুরের ৮টি এবং উল্লাপাড়ার ২টি ইউনিয়ন রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিং ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন