সিরাজগঞ্জ    মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার ঝুকিতে ৩১টি ইউনিয়ন



সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার ঝুকিতে ৩১টি ইউনিয়ন
ছবি: দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীর নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫৫ সে.মি নিচে এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৯৫ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীতে পানি বাড়ার কারণে জেলার ৮৩ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১ টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বন্যার স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত দুইদিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার এবং আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১৫৫ সে.মি নিচে এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৯৫ সে.মি নিচদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে সতর্কবার্তা পোস্ট করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরছলিমাবাদ, ওমারপুর ইউনিয়নের ভূতের মোড় এবং খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের শাকপাল এলাকায় নদীভাঙনে আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্যার স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যায় মানুষের জানমাল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সিরাজগঞ্জ জেলা যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এখানেও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজীপুরের ৭টি, সদরের ৪টি, বেলকুচির ২টি, চৌহালীর ৫টি, শাহজাদপুরের ৮টি এবং উল্লাপাড়ার ২টি ইউনিয়ন রয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ৯টি উপজেলায় ৯টি এবং ৮৩টি ইউনিয়নে ৮৩টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিং ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানির স্রোতে তীব্রতা এবং নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সদর উপজেলা, কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিষয় : সিরাজগঞ্জ যমুনা নদী পানি বৃদ্ধি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার ঝুকিতে ৩১টি ইউনিয়ন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীর নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫৫ সে.মি নিচে এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৯৫ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীতে পানি বাড়ার কারণে জেলার ৮৩ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১ টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বন্যার স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত দুইদিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার এবং আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১৫৫ সে.মি নিচে এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৯৫ সে.মি নিচদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে সতর্কবার্তা পোস্ট করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরছলিমাবাদ, ওমারপুর ইউনিয়নের ভূতের মোড় এবং খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের শাকপাল এলাকায় নদীভাঙনে আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্যার স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যায় মানুষের জানমাল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সিরাজগঞ্জ জেলা যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এখানেও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজীপুরের ৭টি, সদরের ৪টি, বেলকুচির ২টি, চৌহালীর ৫টি, শাহজাদপুরের ৮টি এবং উল্লাপাড়ার ২টি ইউনিয়ন রয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ৯টি উপজেলায় ৯টি এবং ৮৩টি ইউনিয়নে ৮৩টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিং ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানির স্রোতে তীব্রতা এবং নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সদর উপজেলা, কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।


দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা

প্রধান সম্পাদকঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ আব্দুল হামিদ খান হীরা
নির্বাহী সম্পাদকঃ নাফিউ খান (আবির)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার ঝুকিতে ৩১টি ইউনিয়ন
0:00 0:00
1.0x