চোট নিয়ে খানিকটা অস্বস্তি থাকলেও বিশ্বমঞ্চে নামার আগে মাঠে ফিরতে মুখিয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। ফেরার মঞ্চটা তিনি রাঙালেনও নিজের চেনা রাজকীয় ঢঙে। চোট কাটিয়ে নেমেই পেনাল্টি থেকে গোল করলেন, গড়লেন ৬৯ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষদের রীতিমতো এক হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে রাখলেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। এরপর পেনাল্টি থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলএমটেন। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার ১১৭তম গোল।
এই এক গোলেই মেসি ভেঙে দিয়েছেন কিংবদন্তি আনহেল লাব্রুনার ৬৯ বছরের পুরোনো এক কীর্তি। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে মেসি এখন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা। এর আগে ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করে রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছিলেন ‘এল ফিও’খ্যাত লাব্রুনা।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-এর সঙ্গে আলাপকালে নিজের চোট ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন মেসি। তিনি বলেন, শুরু থেকেই দারুণ উপভোগ করছি। এখানে আসার পর থেকে একটু অস্বস্তি ভোগাচ্ছিল, তবে আমি খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। মাঠে নেমে খুব ভালো লেগেছে। খেলার জন্য তীব্র ইচ্ছা ছিল, যাতে ইনজুরির ভয়টা কেটে যায় এবং মন খুলে খেলতে পারি। বিশ্বকাপ অভিষেকের আগে সবাইকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে আমাদের হাতে আরও এক সপ্তাহ সময় আছে।
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ও দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে প্রতিপক্ষদের একরকম সতর্কবার্তাই দিয়ে রাখলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা। সমর্থকদের আশ্বস্ত করে মেসি বলেন, ‘যেকোনো টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমরা খুব রোমাঞ্চিত থাকি। আমি আগেও বলেছিলাম, এই দলটা কাউকে হতাশ করবে না; তারা সেটি প্রমাণ করেছে। যেকোনো প্রতিপক্ষ বা টুর্নামেন্টে তারা সমান ইচ্ছা ও উদ্দীপনা নিয়ে লড়াই করে। এটি একটি বিজয়ী দল, যারা সব সময় আরও বেশি কিছু চায়।
হুঙ্কার ছেড়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আরও যোগ করেন, এই দলটা আজ যে অবস্থানে আছে, তার প্রতিটি ইঞ্চি তারা নিজেদের যোগ্যতায় অর্জন করেছে। আমরা সব সময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। তবে আমরা জয়ের যে অভ্যাস গড়ে তুলেছি, তার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করব। দিন শেষে এটা ফুটবল। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত থাকুন, আমাদের হারানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই অনেক কঠিন হবে। কারণ, আমরা ভীষণ লড়াকু এক দল।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে ইনস্টাগ্রামে ম্যাচের কিছু ছবি পোস্ট করেও ভক্তদের তাতিয়ে দিয়েছেন এলএমটেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এগিয়ে চলো আগের চেয়েও আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’ আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মূল মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা।