সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজের মাথা নিজেরাই কেটে হাসপাতাল থেকে সার্টিফিকেট তুলে মিথ্যা হত্যা চেষ্টা মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ ও এলাকাবাসী। শুক্রবার(২অক্টোবর) সকালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের নান্দিনা কামালিয়া গ্রামে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।উক্ত মানববন্ধন কর্মসুচিতে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার,এলাকাবাসী ও ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জহুরুল সেখ,৮ নং ওয়াডের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম,৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সহ অত্র গ্রামের মুরুব্বি হাজী মনিরুজ্জামান, হাফিজুল খান সহ সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্র দলের সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক নাইম খান।উক্ত মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ইসলামিয়া সরকারি কলেজের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন,গত শুক্রবার বিকেলে আমরা আমাদের জমিতে বেড়া দিতে গেলে শহিদুল ইসলাম ও তার ছেলে রাজুর নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করে এবং বেড়া দিতে বাধা দেয়।এক পর্যায়ে গ্রামের মুরুব্বিরা আমাদের চলে যেতে বল্লে আমরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাই। শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে একদম সুস্থ মানুষ হেঁটে হেঁটে সবার সামনে দিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। তারপর হেঁটে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছিল।তার ভিডিও আমাদের কাছে আছে।তার পর রাতে আমরা শুনি সে তার নিজের মাথা কেটে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গ্রিবিয়াজ সার্টিফিকেট তুলেছে।রবিবারের আমরা কোটে খবর নিয়ে জানতে পারি কামারখন্দ আমলী আদালতে আমাদের ছয় জনকে আসামি করে একটা হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছে।তারি প্রতিবাদে আজ আমরা এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে একটা মানববন্ধন করলাম।তিনি আর ও বলেন, এই শহিদুল ও তার ছেলেদের নিজেদের মাথা কেটে মামলা করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা এক ধরণের ব্যবসা।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্র দলের সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক নাইম খান বলেন,এই শহিদুল গং গত ২০২৬ সালের জুন মাসে এই জমি জমার বিরোধ নিয়েই আমাদের ওপর মামলা করে ছিল। তৎকালিন কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌসের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিষ্পত্তি ঘটে।দীর্ঘ পাঁচ মাস পরে আবার শহিদুল ইসলাম তার নিজের মাথা কেটে আমাদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।সেদিনের ঘটনাস্থলে তার মাথায় কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না তার ভিডিও আমাদের কাছে আছে। এই শহিদুল ইসলাম ২০০৬ সালে তার ছেলে রাজু’র মাথা কেটে পাশের গ্রামের আঃ মজিদের বিরুদ্ধে হত্য চেষ্টা মামলা করে তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে তার জমি দখল করে।কখন ও বাবার মাথা আবার কখন ও ছেলেদের মাথা কেটে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা এটা তাদের এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জহুরুল সেখ বলেন, গ্রামে কারো সাথে তাদের পরন নেই।গ্রামের কেউ তাতের দেখতে পারে না। তাদের কাজি হলো মানুষের সাথে ঝামেলা করা।আর কিছু হলেই হাসপাতালে গিয়ে মাথা কেটে সাটিফিকেট তুলে মামলা করে প্রকিপক্ষকে হয়রানি করা।গত শুক্রবারে যে ঘটনা ঘটেছে সেই সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম সেখানে তার মাথায় কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। সে সুস্থ মানুষ হেঁটে হেঁটে বাড়ি গিয়েছে।তার পর শুনি সে মাথা কেটে মামলা করেছে।এমন কাজের তীব্র নিন্দা জানাই।উক্ত মানববন্ধনে অত্র গ্রামের মুরুব্বি মনিরুজ্জামান বলেন,এই ধরণের কোন ঘটনা সেই দিন ঘটেছি।সে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করছে। এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাশমত আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মামলাটি কিছুক্ষণ আগে রেকর্ড হয়েছে।তদন্ত চলমান,তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন