ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ বিস্তার রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন ।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ রাসেল। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা জাহান সুমাইয়া, থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তন্ময় কুমার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নুরুল হুদা তালুকদার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চিত্রা রানী সাহা, সমাজ সেবা অফিসার মোঃ আব্দুল হান্নান সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এডভোকেট রবিউল হাসান,সহসভাপতি সহকারি অধ্যাপক মোঃ ওয়াহীদুজ্জামান মিনু, বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রশিদ তারা, পৌর সভার সচিব লুৎফর রহমান প্রমুখ। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ,মসজিদের ইমাম, স্বাস্থ্য কর্মী স্বেচ্ছাসেবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রামসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকে সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডাক্তার মোঃ রাসেল বলেন, কাজিপুরের বাসিন্দা যারা ঢাকা বিশেষ করে কোনাবাড়ি চাকরি করে তারা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে কাজিপুর হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। গত কয়েক দিন আগে প্রতিদিন ৪০-৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, আজকে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে।ডেঙ্গু রোগীদের আলাদা ওর্য়াডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ও বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে ।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিজেদের বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে হবে।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আপনার মতামত লিখুন