দেশে বিএনপি একদলীয় শাসন কায়েম করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ একদলীয় শাসন মেনে নেবে না।
শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত অনুগত কর্মীদের ভিসি হিসেবে বসিয়ে দেওয়া, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডার ও নেতাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া; এইভাবে দলীয় শাসন, একদলীয় শাসন বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস ভুলে গেলে হবে না। শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধবছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি এরপরে। সুতরাং একদলীয় শাসন এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
জামায়াতের আমীর বলেন, চব্বিশ হয়েছে বলে ছাব্বিশ সালে একটা নির্বাচন হয়েছে। সুতরাং যাদের রক্ত এবং ত্যাগের কারণে আজকের এ সংসদ, সরকার, বিরোধী দল। তারা যদি এসব শহীদ, আহত, পঙ্গু ভাই-বোনদের প্রতি অবজ্ঞা, উপহাস করেন, তা নিজের সাথেই গাদ্দারির সামিল হবে। এ সমস্ত লড়াকু যোদ্ধাদের কেউ যেন খাটো করে না দেখেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে হাজার জাল-জালিয়াতি, সন্ত্রাস, কালো টাকার ছড়াছড়ি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হাজার জাতের মেকানিজম-ইঞ্জিনিয়ারিং; সবকিছুকে উপেক্ষা করে আপনারা এগারো দলীয় ঐক্যকে একটা আসন কমপক্ষে উপহার দিতে পেরেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছিল, তার ভোট গণনা এবং ফলাফল যদি সেভাবে সুষ্ঠু হতো, অন্য আসনেও জোটের বিজয় হতো। বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে' বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমীর।
গণভোটে বিএনপি ‘প্রথমে’ হ্যা-এর পক্ষে ছিল না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, তারা না ভোটের পক্ষে গোপনে প্রচারণা করেছিল। পরে জনরোষের মুখে পড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও কমপক্ষে একবার গণভোটে হ্যা এর পক্ষে প্রচারণা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
বক্তব্যে গণভোটে বিএনপির অবস্থান নিয়ে বিএনপির কড়া সমালোচনা করে সরকারকে ‘গণভোটের রায়’ মেনে নেবার আহ্বান জানান শফিকুর।
সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সংস্কৃতি বিগত আওয়ামী লীগ চালু করেছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি গালি দিতো বিএনপিকে। সাথে সাথে আমাদেরকেও একটু রাখতো, ছাড় দিতো না। এখন বিএনপিও ওই পুরানা আওয়ামী লীগ যা বলতো, সেই পুরানা আমলের কথাগুলো জপা শুরু করেছে। যে কথাগুলো জপতে জপতে আওয়ামী লীগ গিয়ে পড়ছে দিল্লীতে, আপনারা এগুলা জপতে জপতে কোথায় গিয়ে পড়বেন? জনগণ এগুলা খায় না। তরুণ যুব সমাজ এগুলা শুনতে চায় না।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের এ নেতা বলেন, একটা বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে। অসুবিধা নাই। বাজেট দেবার দায়িত্ব সরকারের, বাস্তবায়নেরও। শুধু এতটুকু বলবো, বিগত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা ২৯ লক্ষ কোটি টাকা চুরি করেছিল, সে পথে আপনারা হাঁটবেন না। কিন্তু কীভাবে আস্থা রাখবো? কারণ, সরকার গঠনের আগে ও পরে চাঁদাবাজের হাত আটকাইতে পারেন নাই। একটা চাঁদাবাজকেও শাস্তির আওতায় আনতে পারেন নাই। ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে।
এ মঞ্চে আসার আগে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ‘একটুখানি সময় তাদের কথা শুনলাম। কী যেন আতঙ্ক তাদেরকে তাড়া করছে। তারা বুক বড় করে, মুখ খুলে কথা বলতে চান না। তাদের চোখের ভাষা বুঝা যায় কিন্তু ঠোটের ভাষা অস্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত একজন তো নিরবতা ভেঙ্গে বললেন, ‘আমরা ভালো নেই। এই চাঁদাবাজরা ভালো থাকতে দিচ্ছে না।
এই চাঁদাবাজরা কারা, কোন দলের প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী আপনারা এদের চেনেন কিনা? দলের নেতা হয়ে বলা হবে- আমরা দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবো। আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজদেরকে লেলিয়ে দিবেন। কথার সঙ্গে কাজে মিল নেই। আবার তারাই আমাদের খোঁটা দেন- আমরা নাকি জান্নাতের টিকেট বিক্রি করি।
তিনি আরও বলেন, অন্যের সম্পদের উপর যারা লোলুপ দৃষ্টি ফেলে, তারা চোর। এরা চোরের চাইতেও খারাপ। যদি তোর কিছু না থাকে, তাহলে ভিক্ষা কর। ভিক্ষা করা হারাম না, কিন্তু চুরি এবং চাঁদাবাজি সর্বাবস্থায় হারাম। আগের হাট-বাজার, মহালের দখলদারি কেবল হাত-বদল হয়েছে। এমনকি আগে যে সমস্ত ব্যাংক-ডাকাতদের ব্যবসা কারা করছে তাদেরকে কি আমরা চিনি না? জনগণ সময়মতো জবাব দেবে।