সিরাজগঞ্জ    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দৈনিক সিরাজগঞ্জ বার্তা

দুটি মানহানির মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন এমপি আমির হামজা

দুটি মানহানীর মামলায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমীর হামজাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে আদালত। রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর ও চৌহালী আমলী আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন মুফতি আমীর হামজা।শুনানি শেষে বিচারক সুমন কুমার কর্মকার দুটি  মামলায় স্থায়ী জামিনের আদেশ প্রদান করেন।আদালতের এপিপি ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।মামলা সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল। ওই দিনই আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল (আজ) আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।২১ এপ্রিল মামলার নির্ধারিত দিনে মুফতি আমির হামজা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরআগে গত ২৭ এপ্রিল এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন মুফতি আমীর হামজা।অপর দিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ জানুয়ারি একটি ইসলামি ওয়াজ মাহফিলে মুফতি আমীর হামজা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপরে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ভিপি শামীম খান বাদী হয়ে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারী আমীর হামজার বিরুদ্ধে আদালতে মানহানীর মামলা দায়ের করেন। আজ সিরাজগঞ্জ সদর ও চৌহালী আমলী আদালতে বিচারক সুমন কুমার কর্মকার দুটি মামলায় স্থায়ী জামিন প্রদান করেন।মামলার বাদী এ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বলেন, মুসিলম পরিবারের সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মায়ের নামে এতিমখানা করেছেন। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন রোজা রাখেন। অথচ গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বলেছিলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। আমির হামজার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হয়। তার ওই বক্তব্যে মন্ত্রীর সম্মানহানি হওয়ায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করি। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজাকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। এ মামলায় তিনি স্থায়ী জামিন নিতে সিরাজগঞ্জের আদালতে আজ আত্মসমর্পন করেন। পরে আদালত তার আবেদন শুনে তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।

দুটি মানহানির মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন এমপি আমির হামজা