সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি মির্জা মোরাদুজ্জামানের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা মোরাদুজ্জামানের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৮টায় মির্জা মোরাদুজ্জামান স্মৃতি সংসদের আয়োজনে পৌর মালশাপাড়া কবরস্থান মাদ্রাসায় কোরআন খানি, সকাল ১০টায়-আলোচনা সভা, সকাল সাড়ে ১০টায় মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরিফ বিতরণ, সকাল ১১টায় কবর জিয়ারত ও বৃক্ষ রোপন। দুপুর ২টায় বাদ জোহর মালশাপাড়া কবরস্থান মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ। মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামান পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে বিকাল ৫ ঘটিকা-বাদ আছর বি.এল স্কুল রোড জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল। বাদ মাগরিব সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। বাদ এশা বি.এল স্কুল রোড জামে মসজিদে মরহুমের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে অত্র মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, জেলা ড্যাব এর সভাপতি ও মির্জা মোরাদুজ্জামান স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টা ডাঃ এম এ লতিফ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের জ্যেষ্টপুত্র ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান।এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বাসদের সমন্বয়ক নব কুমার কর্মকার, কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওহেদুজ্জামান মিনু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, রেল বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহবুব এ খোদা টুটুল, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা নিয়ামুল হাকিম সাজু, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক জি,এস শফিউল আলম ডলার, জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম মিন্টু।এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পৌর মেয়র, সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড মোকাদ্দেস আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন ইসলাম খান, জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক জিন্নাহ সরদার,সদর থানা বিএনপি নেতা আবু কায়েস ভূইয়া কর্নেল, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত হাসান সুমন প্রমুখ।এছাড়াও বাদ আসর বিএল সরকারি স্কুল রোডের জামে মসজিদে ও জেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর থানাধীন কাওয়াকোলা ইউনিয়নের অন্তর্গত কুড়িপাড়া গ্রামে ১৯৩৯ সালের ১১ই মার্চে এক সম্রান্ত কৃষক পরিবারে মির্জা মোরাদুজ্জামান জন্মগ্রহন করেন। পিতা মির্জা জহিরউদ্দিন ছিলেন তদানিন্তন কংগ্রেস আন্দোলনের একজন স্থানীয় নেতা। মির্জা মোরাদুজ্জামান সিরাজগঞ্জ মুসলিম হাই স্কুলে ছাত্রাবস্থায় প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে সক্রিয়তা বেড়ে উঠেন। তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ১৯৫৭ সালে মাওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের মধ্যে বিড়ি-শ্রমিকদের সংগঠিত করে তাদের বাঁচার দাবী পাট-সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জে জুটমিল প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর জেনারেল আজম খান সিরাজগঞ্জে আসেন এবং নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার পর জুট মিল প্রতিষ্ঠার পর বহু বেকার বিড়ি শ্রমিক জুট মিলে চাকরি পায়। ১৯৬৩ সালে মিল শ্রমিকদের নিয়ে কওমী মজদুর ইউনিয়ন গঠনেও তিনি মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৪ সালে কওমী জুট মিলের শ্রমিক নেতৃবন্দ কারাগারে গেলে তিনি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে আইয়ুব খান এবং পাক গর্ভণর মোনায়েম খান বিরোধী শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে মির্জা মোরাদুজ্জামানসহ ১৭ জন নেতা কর্মী গ্রেফতার হন। দীর্ঘ ১১ মাস কারা ভোগের পর তিনি আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মির্জা মোরাদুজ্জামান অকুতোভয় নেতা মাওলানা ভাসানীর রাজনীতিকে উর্ধ্বে তুলে ধরেন। তিনি ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন। পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠী ১৯৭১ সালে ২৫ শে মার্চ নিরীহ বাঙ্গালীদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। এ সময় মির্জা মোরাদুজ্জামান মাওলানা ভাসানীর সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। ১৯৭৬ সালে মাওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করলে মির্জা মোরাদুজ্জামান বিএনপি গঠনে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে পড়েন। স্বৈরাচারের পতনের পর ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ সদর আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসাবে মির্জা মোরাদুজ্জামান বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সিরাজগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় জননেতা মির্জা মোরাদুজ্জামান ১৯৯৫ সালের ১৮ জুলাই ভোরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।