মরক্কোর দেয়া ঝাঁকি কাটিয়ে উঠতে পারবে তো ব্রাজিল?
র্যাঙ্কিং ও শক্তিমত্তার বিচারে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এক মহাদ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ছিল। বিশ্বকাপে অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছিল ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচটিকে।
ইতিহাস হয়তো দু’দলকে দুই মেরুতে রাখবে, তবে বাস্তবতা ভিন্ন। দু’দলই আছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশের মাঝে। যা ম্যাচটির উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। তবে মাঠের ছিল না তার ছিটেফোঁটাও।
ইতিহাস আর আভিজাত্যের সাথে আগামী আর সম্ভাবনার লড়াই। ম্যাচটা ঘিরে চাওয়া-পাওয়া একটু বেশিই ছিল তাই। প্রথমার্ধে কিছুটা দেখা গেল তার ঝলক। যদিও সময় গড়ানোর সাথে সাথে উত্তেজনা কেবল ফিকে হয়েছে।
মেট লাইফ স্টেডিয়ামে রোববার ভোরের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচটিতে ইসমায়েল সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণ নৈপুণ্যে সমতা টানেন ভিনিসিউস জুনিয়র।
দু’দলই ঘর সামলে আক্রমণের কৌশল নেয়ায় কখনোই তেমন গতিময় ফুটবলের দেখা মেলেনি। দু’দলের আক্রমণ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের তেমন পরীক্ষা নিতে পারেনি। যেখানে একটু বেশিই হতাশ করেছে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপে ‘সেলেসাও’রা বরাবরই অঘোষিত ফেবারিট। ফলে ম্যাচের আগে অনেক কথা হলেও ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু মরক্কো বুঝিয়ে দিলো ভিন্ন বাস্তবতা।
ইতিহাসের গৌরব বর্তমান সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না- সেটিই যেন বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে ‘আটলাসের সিংহ’রা দেখিয়ে দিল ‘হাইপ’ ও র্যাঙ্কিং- কোনোটাই মিথ্যা নয়।
নিউ জার্সিতে প্রথমার্ধে ভিনিসিউসের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের গোলটা বাদ দিলে নখদন্তহীন এক ব্রাজিলকে দেখা গেছে। প্রথম ম্যাচের চিরাচরিত স্নায়ুচাপের কারণেই হয়তো তাদের শুরুটা ছিল ভীষণ নড়বড়ে।
গোলের জন্য শট নেয়ার হিসেবে প্রথমার্ধে পরিষ্কার আধিপত্য ছিল মরক্কোর, প্রতিপক্ষের দ্বিগুণ তারা ১২টি শট নেয়; অবশ্য উভয় পক্ষেরই দু’টি করে শট লক্ষ্যে ছিল। তবে ম্যাচে ছিল না টানটান উত্তেজনা।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কমে যায় আরো। এই অর্ধে গোলে আরো সাতটি শট নেয় ব্রাজিল, মরক্কো শট নেয় দু’টি। কিন্তু কেউ কাজের কাজ করতে পারেননি। কোনো দলই দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়নি।
মূলত মরক্কোর মাঝমাঠের ক্ষুরধার খেলার সামনে ব্রাজিল মাঝমাঠে তেমন কিছু ছিল না। মধ্যমাঠ ও রক্ষণভাগে একের পর এক ভুল পাস ও দুর্বল ট্যাকল সেলেসাওদের বাধাগ্রস্ত করছিল।
বিশেষ করে লুকাস পাকেতা, কাসেমিরো এবং রাইট-ব্যাকে খেলা ইবানেজের একের পর এক ভুল ব্রাজিলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। একটা সময় তো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে বলই পৌঁছাচ্ছিল না।
এমতাবস্থায় ম্যাচ শেষে কোচ কার্লো আনচেলত্তিও স্বীকার করে নিলেন নিজেদের ব্যর্থতা। বললেন, মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের ফুটবলটা খেলতে পারেনি তার দল।
সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ‘আমি মনে করি না, আমরা ম্যাচটা ভালোভাবে শুরু করতে পেরেছিলাম। দল কিছুটা স্নায়ু চাপে ভুগছিল। আমরা বারবার বল হারিয়েছি ও অনেক চ্যালেঞ্জেও হেরেছিল।’
ব্রাজিলের আশার আলো হয়ে এদিন কেবল জ্বলে উঠেছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। উপলক্ষটাও ছিল দারুণ। ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচে দলের হার এড়ানো গোল করেন তিনি।
বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার সকালে পরের ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে নিশ্চয়ই আজকের ভুলগুলো শুধরে মাঠে নামবে ব্রাজিল।